বাংলাদেশে ক্রেইট গণের (Genus Bungarus) যে পাঁচটি ক্রেইট পাওয়া যায়, তাদের মধ্যে একমাত্র শঙ্খিনী (Banded Krait) ছাড়া বাকি চারটি প্রজাতিই কালো রঙের হয়ে থাকে।
অন্যদিকে বাংলাদেশে প্রাপ্ত তিন প্রজাতির দাঁড়াশ সাপের মধ্যে দেশি দাঁড়াশের (Oriental Rat Snake) দেহের বর্ণের বৈচিত্র্যতা সবচেয়ে বেশি। তাই কখনো দাঁড়াশের কোনো একটা মর্ফের সাথে পদ্ম গোখরা কিংবা অন্যটির সাথে ওয়াল'স ক্রেইটের সাদৃশ্য দেখা যায়।
দেশি দাঁড়াশের একটি ব্ল্যাক মর্ফের (Morph : বাহ্যিকভাবে যেভাবে দেখতে পাওয়া যায়, সোজা বাংলায় বাহারি রঙের পোশাক পড়লে যেরকম দেখায়) সাথে প্রায়ই ওয়াল'স ক্রেইটকে গুলিয়ে ফেলার সম্ভাবনা থাকে। এদের মধ্যকার পার্থক্য এতো বেশি সূক্ষ্ম যে সাধারণভাবে এদের একটিকে অন্যটি থেকে আলাদা করা যায় না। অথচ দেশি দাঁড়াশ সাপ ( Oriental Rat Snake, বৈজ্ঞানিক নাম : Ptyas mucosa) সম্পূর্ন নির্বিষ, যেখানে ওয়ালের কেউটে (Wall's Krait, বৈজ্ঞানিক নাম : Bungarus walli) দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম তীব্র স্থলজ সাপের প্রজাতি।
তবে মনে রাখতে হবে, এদের ভৌগোলিক বিস্তৃতির দ্বারা এদেরকে পৃথক করা সম্ভব। যেমন : ওয়াল'স ক্রেইটকে সিলেটে পাওয়া যায়না, চট্টগ্রাম ও ঢাকার কিছু অংশে (বিশেষকরে কিশোরগঞ্জে) পাওয়া যায়। তবে উত্তরবঙ্গে বেশ ভালো পরিমাণেই দেখা যায়। কিন্তু দেশি দাঁড়াশের ঐ ব্ল্যাক মর্ফের বিস্তৃতি সিলেট, ময়মনসিংহ, গাজীপুর প্রভৃতি অঞ্চলে।
দেশি দাঁড়াশ সাপ দিবাচর (Diurnal), কিন্তু ওয়ালের কেউটে নিশাচর (Nocturnal)। দেশি দাঁড়াশ সাপ ওয়ালের কেউটের থেকে আকারে বড় হয়। যেখানে ওয়াল'স ক্রেইট সর্বোচ্চ ১.৫ মিটারের মতো লম্বা হতে পারে, সেখানে দাঁড়াশ সাপ প্রায় ২ মিটারের অধিক হতে পারে। তাছাড়া দাঁড়াশ সাপের দেহ মোটাসোটা ধরনের এবং লম্বাটে, অন্যদিকে ওয়ালের কেউটের দেহ ত্রিকোণাকৃতির।
![]() |
ছবি : ওয়াল'স ক্রেইট (iNaturalist) |
![]() |
ছবি : কালো মর্ফের দেশি দাঁড়াশ (Ecology Asia) |
আরো দুটি স্পষ্ট পার্থক্য দেখা যায় তাদের চোয়ালে। দেশি দাঁড়াশের চোয়ালে অনেকগুলো কালো দাগ থাকে, যেখানে ওয়ালের কেউটের চোয়াল পুরোপুরি সাদা।
![]() |
| ছবি : দেশি দাঁড়াশ ও ওয়াল'স ক্রেইটের মুখের পার্থক্য |
তাছাড়া দেশি দাঁড়াশের লেজে স্পষ্ট জালিকাকার প্যাটার্ন দেখা যায়, যেখানে ওয়ালের কেউটের সরু লেজে কোনো জালের মতো প্যাটার্ন থাকে না।



0 Comments