সুজলা-সুফলা ও শস্য-শ্যামলা এই বাংলা আয়তনের দিক থেকে হয়তো পৃথিবীর অন্যতম ছোট একটি দেশ, কিন্তু জীববৈচিত্র্যে এটি একটি হটস্পট। এখানে ছোটো-ছোটো কীটপতঙ্গ থেকে শুরু করে বৃহদাকার স্তন্যপায়ীদের বৈচিত্র্য তুলনা করার মতো। তেমনি এখানকার সর্প বৈচিত্র্যও মনোমুগ্ধকর। সবুজ এই বাংলার তেমনই একটি সবুজ সাপ, নাম " সবুজ দাড়াঁশ "।
আমরা কমবেশি সবাই জানি, বাংলাদেশে মোট ৩ প্রজাতির দাঁড়াশ সাপের দেখা পাওয়া যায়। দেশি দাড়াঁশ সাপ (Oriental Rat Snake, Pytas mucosa), ইন্দো-চীনা দাড়াঁশ সাপ (Indo-chinese Rat Snake, Ptyas korros), ও সবুজ দাড়াঁশ সাপ (Green Rat Snake, Ptyas nigromarginata)।
দেশি দাঁড়াশ কমবেশি সর্বত্রই পাওয়া যায়, ইন্দো-চীনা দাঁড়াশ পাহাড়ি অঞ্চলের এবং তুলনামূলক বিরল। অন্যদিকে, পাহাড়ের অপর বাসিন্দা সবুজ দাঁড়াশ এতোটাই বিরল যে এদের দেখা পাওয়াটাই ভাগ্যের ব্যাপার।
কলুব্রিডী ফ্যামেলির নির্বিষ এই সাপের বৈজ্ঞানিক নাম Ptyas nigromarginata. ল্যাটিন শব্দ Nigro অর্থ কালো আর Margo থেকে Marginatus শব্দের উৎপত্তি যার অর্থ কালো বর্ডারে আবৃত। এই থেকে হয়তো ইংরেজিতে একে Black-boarderd Rat Snake বলা হয়।
![]() |
ছবি : সবুজ দাঁড়াশ ( Parinya Pawangkhanant) |
সবুজ দাঁড়াশের দেহের পৃষ্ঠীয় আঁইশগুলোর (Dorsal Scales) শেষপ্রান্ত কালো রঙের, ফলে সবুজের মাঝে একটি কালো বর্ডারের মতো দেখায়। মাথার উপরের দিকটা বাদামী রঙের এবং নিচের দিকটা সাদা। দেহের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ পরে কয়েকটি কালো ফিতা লেজের শেষভাগ পর্যন্ত চলে গেছে, অনেকটা হেলে সাপের মতো।
সবুজ দাঁড়াশের মুখের আকৃতি অনেকটা ইন্দো-চীনা দাঁড়াশের মতো, চোখের মণিগুলো গোলাকার ও কালো, দেখতে মায়াবী!
Ptyas গণের অন্যান্য দাঁড়াশের মতো এরাও ডিম পেড়ে বাচ্চা দেয় (Oviparous) এবং দিনের বেলায় সক্রিয় থাকে (Diurnal), গাছ বেয়ে উঠতে পটু।
সবুজ দাঁড়াশ সাপ পাহাড়ি বনাঞ্চলের বাসিন্দা, গাছপালা আবৃত ঘন বনে এদের দেখতে পাওয়া যায়।
বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে এটিকে পাওয়া যায়, সিলেটের পাহাড়ি অঞ্চলেও পাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা আছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ (দার্জিলিংয়ে), মেঘালয় (খাসিয়া পাহাড়, শ্রিলং, চেরাপুঞ্জি), সিকিম, অরুনাচল প্রদেশ ও নাগাল্যান্ডে এটির রেকর্ড করা হয়েছে।
এর বাইরের চীন, মিয়ানমার, ভিয়েতনাম ও ভূটানে রেকর্ড আছে, কয়েকবছর আগে থাইল্যান্ডেও রেকর্ড পাওয়া গেছে।
এদের সম্পর্কে খুবই কম গবেষণা হয়েছে এবং বিরল স্বভাবের হওয়ায় দেখা পাওয়াটা দূরুহ। ফলে, এদের বাসস্থান, খাদ্যভ্যাস ও বাস্তুতন্ত্র সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যায় না।
.jpeg)
0 Comments