Advertisement

দাঁড়াশ সাপ (Rat Snake)

কলুব্রিড্রি পরিবারভূক্ত একটি নির্বিষ সাপ হলো " দাঁড়াশ সাপ (Rat snake) ", এর বৈজ্ঞানিক নাম : Ptyas mucosa। এদেরকে অঞ্চলভেদে বিভিন্ন নামে ডাকা হয় যেমন : দাঁড়াশ, দাড়াইল, দাড়াইশ (সিলেটে), ঢ্যামনা, দারাজ, ডারাইস ইত্যাদি। এদের গায়ের রঙে বেশ বৈচিত্র্য দেখা যায়, হালকা বাদামি বা হলদে-বাদামি থেকে জলপাই-বাদামী, ধূসর বা কালো রঙেরও হয়ে থাকে । ঠোট ও গলা সাদাটে। অপ্রাপ্ত বয়স্ক সাপ কিছুটা জলপাই রঙের এবং দেহের সামনের দিকে কালো আড়াআড়ি ব্যান্ড থাকে। লেজের দিকটা দেহ থেকে পৃথকযোগ্য এবং কালো প্যাটার্নে জালের মতো সাজানো।

এরা আকারে বেশ বড় হয়ে থাকে, সাধারণত ২-৩ মিটার পর্যন্ত হতে পারে। প্রধান খাদ্য মূলত ইঁদুর, এজন্যই এই Ptyas গণের সাপদেরকে Rat Snake বলা হয় (যদিও আরো কয়েকটি গণের সাপও Rat Snake এর অন্তর্ভুক্ত) । প্রতি বছর এরা বিপুল পরিমাণ ইঁদুর খেয়ে ফসলের উপকার করে বলে একে "কৃষকের বন্ধু " হিসেবেও অভিহিত করা হয়। এছাড়াও এটি টিকটিকি, পাখির বাচ্চা, পাখির ডিম, বিভিন্ন উভচর প্রাণী যেমন: ব্যাঙ ইত্যাদি খেয়ে থাকে। এরা শিকারকে গিলে খায়।


ছবি : দাঁড়াশ সাপ (C : Wikipedia) 

দাঁড়াশ সাপ কৃষি জমিতে থাকতে পছন্দ করে এবং এর আশপাশের প্রায় ৩ একর এলাকায় ইঁদুর শিকার করে।

দাঁড়াশ সাপের বর্ণ বৈচিত্র্যময়তার জন্য একে অনেকের কাছে গোখরা বলে মনে হতে পারে এবং এজন্য হয়তো এরা বেশি মারা পড়ে। তবে এরা ফনাবিহীন হওয়ায় গোখরা থেকে খুব সহজেই পৃথক করা যায়।

আবার সিলেট, ময়মনসিংহ, গাজীপুর প্রভৃতি অঞ্চলে প্রাপ্ত দাঁড়াশের একটি কালো মর্ফের সাথে প্রায়ই ওয়াল'স ক্রেইটকে গুলিয়ে ফেলার সম্ভাবনা থাকে, যদিও এই দুটির পার্থক্য করার জন্য সাপ সম্পর্কে  যথেষ্ট জ্ঞান থাকা চাই।

দাঁড়াশ সাপের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এরা ‘যুদ্ধ নাচ’ (combat dance) দেখায়। দুটি পুরুষ সাপ লড়াইয়ে পরস্পর দেহের অর্ধেক রশির মতো পেঁচিয়ে মাটির কিছুটা উপরে অবস্থান করে এরা তা প্রদশর্ন করে।

সাধারণত মে থেকে জুন মাস এদের প্রজননকাল।এসময় স্ত্রী সাপ ১২-১৪ টি চকচকে সাদা ডিম পাড়ে, ডিমগুলো আঠালো এবং একটির সাথে অপরটি যুক্ত থাকে এবং স্ত্রী সাপ ডিমের উপর কুন্ডলী পাকিয়ে অবস্থান করে। এভাবে প্রায় ২ মাস অবস্থানের পর ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়। সদ্য পরিস্ফুটিত বাচ্চাাগুলোর দৈর্ঘ্য ৩৬-৪৭ সেন্টিমিটার হয়ে থাকে।

Post a Comment

0 Comments